Breaking News

ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে বেড়েছে শীতের তীব্রতা, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

পঞ্চগড়ে ঘন কুয়াশা ও উত্তুরে হাওয়ায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। পৌষের শুরু থেকেই শুরু হয়েছে শীতের দাপট। শীতের যে প্রকৃত চিত্র এখন ফুটে উঠতে শুরু করেছে। গত দুই দিন হতে এক অঙ্কে তাপমাত্রা বিরাজ করছে।

মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এই জে’লায়। টানা চারদিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে এখানে। শনিবার সকাল নয়টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে তেতুঁলিয়া আবহাওয়া অফিস। গতকাল শুক্রবার তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি,

গত বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি। এই সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছে তেতুঁলিয়া আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক জিতেন্দ্রনাথ রায়।

তিনি বলেন, মাঝারি শৈত্য প্রবাহ শুরু হলে তাপমাত্রা আরও কমে যাবে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গত ১৬ ডিসেম্বর বুধবার ২৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি, বৃহস্পতিবার ১৭ ডিসেম্বর ২১ ডিগ্রী এবং গতকাল শুক্রবার ১৮ ডিসেম্বর ২১ দশমিক ৮ ডিগ্রি রেকর্ড হয়েছে বলে জানায় জিতেন্দ্রনাথ রায়।

হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশায় কাবু হয়ে যাচ্ছে যাচ্ছে এখানকার জনগণ। রাত থেকে ভোর, ভোর থেকে বেলা নয়টা পর্যন্ত কুয়াশার পরিমান বেশি থাকে, কখনো আবার বৃষ্টির মত কুয়াশা পড়ে।

গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে দিনের অধিকাংশ সময়ে সূর্যের দেখা মিলছে না। ভোর বেলা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে চারপাশ। দুপুরের পর অল্প সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তীব্রতা নেই।

সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় শীতের প্র’কোপ ঠান্ডা বাতাসের সাথে রাতে ঘন কুয়াশায় রাস্তা ঘাট ঢেকে যায়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দিকে শীতের প্র’কোপ বেশি।

উপায় না পেয়ে বাড়িতে বাড়িতে খুড়খুটা জ্বা’লিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করে সাধারণ মানুষ। শহড়ের অলিতে গলিতেও আ’গুন জ্বা’লিয়ে শীত নিবারন করতে দেখা যায়।

স্থানীয় নিম্ন আয়ের শ্র’মিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঠান্ডা হাওয়া আর কুয়াশার কারণে বাড়ি থেকে রেব হতে পারছেনা। শহরের সিনেমা হল সড়কের আশে পাশে শতাধিক না’রী ও পুরু’ষ শ্র’মিকদের জটলা বেধে আছে।

সেখানে ফুলতলা এলাকার বাবুল ইসলাম (৪৮) বললেন আমি গত দুইদিন থেকে সময়মত কাজে বের হতে পারছি না। ঠান্ডায় হাত ও পা অবশের মত হয়ে যাচ্ছে।

শনিবার সকালে স্থানীয় রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে সহিদা বেগম (৪২) কাজে যোগ দেওয়ার জন্য রামের ডাঙ্গা এলাকা হতে শহরে আসে সিনেমা হল সড়কের সাথী ডেকোরেটর দোকানের বিপরিতে দেখা হলে তিনি জানায় পূর্বের মত এখন আর প্রতিদিনই কাজ পাওয়া যায় না।

কনকনে ঠান্ডার কারণে কাবু হয়ে গেছি আমরা। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে দেখি ঘন কুয়াশায় সামনের দিকে দশ গজ পর কিছু দেখা যায় না।

তুলার’ডাঙ্গা এলাকার হামিদুল ইসলাম নামে কাঁধে ভাড়ওয়ালা শ্র’মিকের সাথে কথা হলে তিনি জানায় পঞ্চগড়ে পুরোদমে শীত পড়ে গেছে।

শীত অসলেই আমাদের জন্য বি’পদ কারণ শীতকালে ঘরবাড়ি তৈরির কাজ কমে যায়। বেলা ১২টার পূর্বে মানুষ ঘর হতে বের হয় না। শুধু আমাদের পেটের তাগিদে বের হতে হয়। কারণ কাজ না করলে খাবো কি?

পৌরসভার কামাতপাড়া এলাকার সবজি চাষি আইনুল ইসলাম (৪৭) জানায় বাড়ি থেকে বের হয়ে সকালে মাঠে কাজ করতে যাবো কিন্তু বের হয়ে যাওয়ার সময় আমার শ’রীর কুয়াশা ভিজে যাচ্ছে। তখন ঠান্ডায় আর কাজ করতে পারছিনা।

পৌরসভা এলাকার নিমনগড় গ্রামের রশিদুল ইসলাম (৪১) সকালে ধাক্কামাড়া এলাকায় কথা হলে তিনি বলেন ট্রাক চালাতে কুয়াশার কারনে সময়মত বালু ও পাথর পৌছাতে পারছিনা কারণ কুয়াশার কারনে হেড লাইট জ্বা’লিয়ে চলতে হয় এমনকি মাঝে মাঝে থেমে থাকতে হয় কখন কুয়াশা কে’টে যাবে।

পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. ফজলুর রহমান জানায় ক’রোনার কারণে যদিও হাসপাতালে রো’গীর সংখ্যা কম। শীতজনিত রো’গে এখন পর্যন্ত গত বছরের এই সময়ের তুলনায় রো’গী ভর্তি হয়নি তবে প্রতিদিনই হাসপাতালের বহি:বিভাগে শি’শু রো’গী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

একই সাথে তিনি জনগণকে মাস্ক ব্যবহার এবং সম্ভব হলে শি’শুদেরকে ঘন কুয়াশার সময় ঘর হতে বের না করা পরামার্শ দিয়েছেন।

এই জে’লার জনগণের একটি বিরাট অঙ্কের জনগোষ্টি দরিদ্র শিতার্ত। বরাবরের মতই তারা শীত বস্ত্রের আশায় থাকে। স’রকারের পাশাপাশি বেস’রকারি ভাবে স্থানীয় ও জাতীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক সেচ্ছাসেবী সংগঠন এখানে প্রতিবছরই শীতবস্ত্র বিতরন করেন তবে এখন পর্যন্ত এই মৌসুমে সেই সংগঠনগুলো এগিয়ে আসেনি।

এদিকে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জে’লা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান জানায় শীত মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের। ইতোমধ্যে আমরা স’রকারের পক্ষ থেকে ২২ হাজার শীতবস্ত্র কম্বল জে’লার ৪৩টি ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বিতরন করেছি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে স’রকারের উচ্চ পর্যায়ে আরও চা’হিদা পাঠানো রয়েছে। এছাড়াও শীতার্তদের জন্য নগদ ত্রিশ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে শীতবস্ত্র ক্রয়ের জন্য। শীতবস্ত্র ক্রয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

About tanvir

Check Also

ভাতে রয়েছে স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি পুষ্টিগুণ

ভাত খেতে বা’ধা, এ নি’ষেধ যেন মানবার নয়! মেদ, ভুঁড়ি যতই বাড়ুক, এক বেলা ভাত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *