Breaking News

উকিল হতে এসে আ’সামি ৪৯ জন, রি’মান্ডে ২৪

আইনজীবী হতে এসে বেআইনি কাজে জ’ড়িত থাকার অ’পরাধে আ’দালতে আ’সামির কাঠগড়ায় দাঁড়ালেন ৪৯ জন। তাদের ২৪ জনকে নেওয়া হয়েছে রি’মান্ডে আর বাকিরা গেলেন জে’লে।

ঘ’টনার শুরু ওকালতির পেশাগত তালিকাভুক্তির পরীক্ষা দিতে এসে, শুরুতেই তারা প্রশ্নপত্র ‘কঠিন’ এমন অভিযোগে বি’ক্ষো’ভ করেন।

পরে পরীক্ষা কেন্দ্রে ভা’ঙচুর চালান আইনজীবী হতে আসা বেশ কিছু পরীক্ষার্থী। ঘ’টনাস্থলে থাকা পু’লিশ সদস্যরা তাদের শান্ত করতে গেলে উল্টো পু’লিশের কাজে বা’ধা দেওয়ার আরও একটি অ’পরাধে জড়ান তারা।

রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘটা এমন ঘ’টনায় পু’লিশ আ’টক করে মোট ৪৯ জনকে। পরে আরও অ’জ্ঞাত উল্লেখ করে প্রায় এক হাজার জনের বি’রুদ্ধে তিন থানায় মা’মলা দেওয়া হয় পাঁচ’টি।

যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে পেতেন আ’দালতে দাঁড়িয়ে মা’মলা লড়াইয়ের পেশাগত স্বীকৃতি, সেই বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় ভা’ঙচুরের অ’পরাধে আ’সামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হলো তাদের।

শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হওয়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তির পরীক্ষায় ভা’ঙচুর ও পু’লিশের ও’পর হা’মলার ঘ’টনায় ৪৯ জন পরীক্ষার্থীকে পৃথক ৫ মা’মলায় আ’সামি দেখিয়ে রোববার

(২০ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যা’জিস্ট্রেট মোহাম্ম’দ জসিমের আ’দালতে হাজির করে পু’লিশ।

প্রত্যেককে তিনদিন করে রি’মান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে আ’দালত ২৪ জনকে একদিন করে রি’মান্ড মঞ্জুর করে বাকি আ’সামিদের কা’রাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

এর আগে গ্রে’ফতারদের বি’রুদ্ধে রাজধানীর তিনটি থানায় পাঁচ’টি মা’মলা করা হয়েছে। এসব মা’মলায় প্রায় এক হাজার জনকে আ’সামি করেছে পু’লিশ।

ঢাকার অ’পরাধ, ত’থ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) জাফর হোসেন এ বি’ষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যা’জিস্ট্রেট আ’দালতে মা’মলার ত’দন্ত কর্মকর্তারা পৃথক মা’মলায় ৪৯ জনকে হাজির করেন।

ত’দন্ত কর্মকর্তারা তিনদিন করে রি’মান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক ২৪ জনকে একদিন করে রি’মান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। অন্যদের কা’রাগারে পাঠিয়ে দেন।

মোহাম্ম’দপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মোহাম্ম’দপুর কেন্দ্রীয় কলেজে ভা’ঙচুর ও পু’লিশের ও’পর হা’মলার ঘ’টনায় পু’লিশ বা’দী হয়ে একটি মা’মলা দা’য়ের করে।

মা’মলায় ১৬ জনকে নামধারী এবং অ’জ্ঞাতনামা আরও ৫০০ জনকে আ’সামি করা হয়। মা’মলায় ১১ জনকে গ্রে’ফতার করে রি’মান্ড চাওয়া হয়েছে।’

নিউমার্কেট থানার ডিউটি অফিসার মোয়াজ্জেম হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ভা’ঙচুরের ঘ’টনায় বিসিএসআইআর স্কুল কর্তৃপক্ষ একটি এবং পু’লিশ বা’দী হয়ে দুটিসহ মোট তিনটি মা’মলা দা’য়ের করে।

এ ঘ’টনায় মোট ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে ২৫০ জনকে আ’সামি করা হয়। এসব মা’মলায় ৩৭ জনকে গ্রে’ফতার করে রি’মান্ডে পাঠানো হয়েছে।

সূত্রাপুর থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা বলেন, বার কাউন্সিল পরীক্ষার ঘ’টনায় একটি ভা’ঙচুরের মা’মলা করা হয়েছে। মা’মলায় কতজনকে আ’সামি করা হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বলতে পারেননি। তবে এ ঘ’টনায় একজনকে গ্রে’ফতার করে রি’মান্ডে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রস’ঙ্গত, শনিবার সকাল ৯টা থেকে ঢাকার ৯টি কেন্দ্রে প্রায় ১৩ হাজার পরীক্ষার্থী আইনজীবী তালিকাভুক্তির লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর ক্ষু’ব্ধ হয়ে ওঠেন পরীক্ষার্থীরা। অনেকে পরীক্ষা বর্জন করে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান।

শিক্ষার্থীদের দাবি, এবারের প্রশ্নপত্র অনেক ‘কঠিন’ হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষায় সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন এসেছে। এতে ১০ শতাংশ পরীক্ষার্থীও পাস করবে না।

এসব অভিযোগে পুরান ঢাকার মহানগর ম’হিলা কলেজ কেন্দ্র, মোহাম্ম’দপুর স’রকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোহাম্ম’দপুর কেন্দ্রীয় কলেজ ও বিসিএসআইআর হাইস্কুলে ভা’ঙচুর চা’লানো হয়।

আইনজীবীর তালিকাভুক্তির পরীক্ষা দিতে আসা সাধারণ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সনদের দাবিতে আগে থেকেই একদল পরীক্ষার্থী আন্দোলন করছিল।

তারাই এই হা’মলা করেছে বলে পরীক্ষায় অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীরা জানান। তবে তাদের স’ঙ্গে কিছু পরীক্ষার্থীও যোগ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবীদের সনদ পেতে নৈর্ব্যক্তিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।

আবার ওই তিন ধাপের যেকোনো একটি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা একবার উত্তীর্ণ হলে পরবর্তী পরীক্ষায় তারা দ্বিতীয় ও শেষবারের মতো অংশগ্রহণের সুযোগ পান। তবে দ্বিতীয়বারেও অনুত্তীর্ণ হলে তাদের পুনরায় শুরু থেকেই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।

সে অনুসারে ২০১৭ সালের ৩৪ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে থেকে লিখিত পরীক্ষায় দ্বিতীয় ও শেষবারের মতো বাদ পড়া তিন হাজার ৫৯০ জন শিক্ষার্থী এবং ২০২০ সালে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মধ্যে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আট হাজার ৭৬৪ শিক্ষার্থী মোট ১২ হাজার ৮৫৮ জন সনদপ্রত্যাশী এবার লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।

About tanvir

Check Also

বাংলাদেশের প্রথম তৃতীয় লি*ঙ্গের মাদরাসায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু

শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও আ’নন্দমুখর পরিবেশে বাংলাদেশের প্রথম তৃতীয় লি*ঙ্গের মাদারাসায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে। গতকাল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *