Breaking News

ভালোবাসার অভাবে ভুগছি সেটার ভ্যাকসিন কে দেবে

মানুষের যেমন একটি জ’ন্ম’দিন থাকে। একদিন সবাই ঘটা করে পালন করছি। আসলে কিন্তু মানুষ প্রতিদিনই ভালোবাসা পাচ্ছে। একটু একটু করে ভালোবাসা নিচ্ছে।

প্রতিদিনই কিন্তু আমরা নিজেদের মতো করে নিজেদের জ’ন্মটা উপভোগ করি। জ’ন্ম’দিনটাকে উদযাপন করতে আসলে শুভ জ’ন্ম’দিন বলা হয়ে থাকে।

আসলে কিন্তু শুভ জ’ন্ম বলা উচিত। জ’ন্ম’দিনটাকে একদিনের মধ্যে বেঁ’ধে ফেলা উচিত নয়। আসলে আমি তো পৃথিবীতে আসাটাকেই স্বাগত জানাচ্ছি। আর যদি একদিনে আ’টকে থাকতে হয় তা হলে ব্যাপারটি মানবিক থাকে না। সেজন্য কোনো দিন বা দিবসকে অন্তত এই বি’ষয়গুলো যেমন ভালোবাসা দিবস অথবা বাবা দিবস,

মা দিবস। আসলে এগুলো একদমই ওয়েস্টার্ন একটা কালচারে পরিণত হয়েছে। আমাদের কালচারে মনে হয় ২০ বছর কিংবা ৩০ বছর ধরে হয়তোবা এগুলো আমরা উদযাপন করছি। তাই মানে কি এই আমরা বাবা-মাকে ভালোবাসতাম না।

আমরা যদি চিন্তা করি, ওয়েস্টার্নেই কিন্তু প্রথম বৃ’দ্ধাশ্রমের প্রচলন হয়। আমাদের এখানে কিন্তু এর প্রচলন আগে ছিল না। যেহেতু পাশ্চাত্যের প্রভাব আমাদের মাঝে ঢুকে গেল,

যখন আমরা একা একা থাকা শুরু করলাম, যৌথ পরিবারগুলো ভে’ঙে গেল, আমরা একেবারেই নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলাম তখনই আমাদের মাথায় এলো পাশ্চাত্যে যেহেতু এমনটা আছে তা হলে আমরাও ঘটাতে পারি।

আমাদের অবশ্যই পাশ্চাত্য থেকে অনেক কিছু শেখার আছে, তাই বলে সব কিছুই তো আর ভালো নয়। আমরা কীভাবে বড় হয়েছি, আমাদের যে সংস্কৃতি, সে অনুযায়ী আমাদের চলতে হবে।

পাশ্চাত্যের অনেক কিছুর স’ঙ্গেই আমাদের মিল নেই। যেমন আমাদের মাটির স’ঙ্গে তো ওদের মাটির মিল নেই। ওদের দেশে তো আপেল রাস্তায় পড়ে থাকে। আর আমাদের দেশে আপেল অনেক ক’ষ্ট করে কিনতে হয়।

ওদের দেশে আবার পেয়ারা পাওয়া যায় না। বি’ষয়গুলো আসলে আমাদের ভাবতে হবে। তাই বাবা-মা দিবস নিয়ে ভাবতে হবে। এখন তো দেখি, ফেসবুকে বাবা-মার স’ঙ্গে ছবি দিয়ে আমাদের দায়িত্ব পালন করে ফেলি।

ভালোবাসা দিবসটার বি’রুদ্ধে আমি নই। কারণ একটা দিনে হলেও মানুষ ভালোবাসার কথা বলে। আমরা যদি চারদিকে তাকাই তা হলে দেখি ভালোবাসার উদাহরণ অনেক আছে।

তার পরও ভালোবাসার চাইতে বিদ্বেষের কিংবা হিংসার উদাহরণই বেশি দেখি। যু’দ্ধের উদাহরণই বেশি পাই, একটা দেশ আরেকটা দেশের পেছনে লেগে আছে। বর্তমানে কিন্তু আরও বেশি। তাই ভালোবাসা দিবসের অছিলায় যদি একজন আরেকজনকে ভালোবাসে তাতে দোষের কিছু নেই।

আমার কথাটা হচ্ছে, ভালোবাসা বলতে শুধু প্রে’মিক-প্রে’মিকার কথা বললেই হবে না। যদিও ভ্যালেন্টাইনের ইতিহাসের দিকে তাকালে কপোত-কপোতীর ইতিহাসই দেখতে পাই।

এখন কিন্তু সেই ব্যাপ্তিটা অনেক বড় হয়েছে। বর্তমান সময়ে এসে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘাটতি যে জিনিসটার সেটা হলো ভালোবাসা। আমাদের মাঝে এখন সহমর্মিতার অভাব। এখন স্বার্থ ছাড়া কিন্তু আড্ডাও হচ্ছে না। এই যে আমরা এক গুমট পৃথিবীর বাসিন্দা। যেখানে চাইলেই অনেক কিছু হয়ে যাচ্ছে।

পুরো পৃথিবীর মানুষ কিন্তু নিরাপত্তাহীন। দ্বিতীয় বিশ্বযু’দ্ধের পর কিন্তু অনেক মানুষই প্রমিজ করেছিল আর হা’নাহানিতে জড়াবে না। কিন্তু পরে ভু’লে গেছে।

আবার ক’রোনার মধ্যেও কিন্তু মানুষ অনেক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। পাওয়ারফুল দেশগুলো যখন বি’পর্যস্ত তখন কিন্তু অনেকেই বলছে ক’রোনার পর অনেক কিছু পাল্টে যাবে।

আমরা মৃ’ত্যু অনেক কাছ থেকে দেখেছি। তার পরও যখন আমাদের চেতনা হয় না। তখন মনে হয় আমাদের সবচেয়ে বড় অভাব ভালোবাসা। তাই ভালোবাসা দিবসকেও একদিনের ঘেরাটোপে আ’টকে রাখা ঠিক নয়।

ক’রোনার ভ্যাকসিন আসছে, কিন্তু আমরা যে ভালোবাসার অভাবে ভুগছি সেটার ভ্যাকসিন কে দেবে। আসুন আমরা আশপাশের সব কিছুকেই ভালোবাসতে শিখি।

যেমন বাড়ির পাশের গাছটিকে ভালোবাসি। আশাপাশের কুকুরগুলোর প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেই। যেসব মানুষ ক’ষ্টে আছে তাদের প্রতি ভালোবাসার পরশ বুলিয়ে দিতে পারি।

হা’নাহানি হয়তো কমাতে পারব না তবে চারদিকে ভালোবাসা ছড়িয়ে দিলে কিছুটা হলেও কমে আসবে। আসুন সবাই ভালোবাসার ছায়াতলে মি’লিত হই।

About tanvir

Check Also

ভাতে রয়েছে স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি পুষ্টিগুণ

ভাত খেতে বা’ধা, এ নি’ষেধ যেন মানবার নয়! মেদ, ভুঁড়ি যতই বাড়ুক, এক বেলা ভাত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *