Breaking News

শ’রীরে প্রোটিনের অভাব, যেসব লক্ষণে বুঝবেন

শ’রীরে প্রোটিনের অভাব এবং আধিক্য দুই কারনেই বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হয় আমাদের । শ’রীরকে সুস্থ রাখতে দরকার হয় পরিমাণ মতো প্রোটিনের।

প্রোটিনে প্রচুর অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে যা শ’রীরের পেশী বৃ’দ্ধি হয়। অনেক সময় শ’রীরে প্রোটিনের ঘাটতিও দেখা দেয়। ঘাটতির লক্ষণ এড়িয়ে গেলে ভবি’ষ্যতে শ’রীরে বড় ক্ষ’তি হতে পারে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক- শ’রীরকে যদি দালানের সাথে তুলনা করা হয় তাহলে প্রোটিন হলো ইট। শ’রীরের গঠন উপাদান হিসেবে কাজ করে এই প্রোটিন। প্রতিদিনের ক্যালরি চা’হিদার অন্তত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ প্রোটিন থেকে পূরণ করা উচিত।

খাবারের এই উপাদান শা’রীরিক বিকাশে ও মাংসপেশি গঠনে সাহায্য করে। শি’শুদের বাড়ন্ত ব’য়সে তাই প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত মাছ, মাংস, দু’ধ, ডিম এইসব খাবারে প্রোটিন থাকে।

আমাদের শ’রীরে যে প্রোটিনের অভাব রয়েছে, তা কতগুলো লক্ষণ দেখলেই বোঝা যায়। সেগুলো জানা থাকলে, স’ঙ্গে স’ঙ্গে সতর্ক হওয়া যায়। জেনে নেওয়া যাক সেই লক্ষণগুলো সম্প’র্কে…

১. শ’রীরে দু’র্বল লাগা, ক্লান্ত লাগা
প্রোটিন শ’রীরে এনার্জি দেয়। তাতে কাজের স্পৃহা পারে, সব সময় অ্যাকটিভ থাকা যায়। যদি শ’রীরে প্রোটিনের ঘাটতি থাকে তাহলে সারাদিন ক্লান্ত লাগতে পারে। ঘুম-ঘুম ভাব থাকতে পারে।

সাধারণত যে ক্লান্ত লাগে, তার থেকে বেশিই ক্লান্তি আসতে পারে। তা কিন্তু প্রোটিনের ঘাটতির লক্ষণ। ঘন ঘন অ’সুস্থ হয়ে পড়া, বা সুস্থ হতে সময় লাগা ইত্যাদিও শ’রীরে প্রোটিনের অভাবের লক্ষণ। প্রোটিন শ’রীরে কোষ গঠনে সাহায্য করে এবং রো’গ প্রতিরোধ ক্ষ’মতা বাড়িয়ে তোলে। তাই শ’রীরে প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দিলে শ’রীর সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লাগে।

২. শ’রীরে প্রোটিনের অভাবের ফলে পেশিতে জো’র না পাওয়া
পেশি গঠনে ও মজবুত করতে সাহায্য করে প্রোটিন। যদি শ’রীরে প্রোটিনের ঘাটতি থাকে তাহলে পেশিতে জো’র থাকবে না। কোনও ভারী জিনিস তুলতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রোটিন আপনার শ’রীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি অ্যান্টিবডি নির্মাণ এবং রো’গ প্রতিরোধ ক্ষ’মতা বাড়ানোর সাথে গভীরভাবে সম্প’র্কিত। সুতরাং যখন প্রোটিনের ঘাটতি হয় তখন ইমিউন সিস্টেম দু’র্বল হয়ে পড়ে এবং ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার আ’শঙ্কা বেড়ে যায়।

৩. খিদে বেড়ে যাওয়ার জন্যও দায়ী শ’রীরে প্রোটিনের অভাব
প্রোটিন শ’রীরের অন্যতম প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস। যদি শ’রীরে এর ঘাটতি থাকে তাহলে শ’রীর খিদের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে তা মেটানোর চেষ্টা করে।

এবার এই খিদেটা যদি কোনও প্রসেসড ফুড বা জাঙ্ক ফুড দিয়ে মেটানো হয়, তাহলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ওজন হ্রাস করতে চাইলে হাইপ্রোটিন খাদ্য তালিকার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু শ’রীরে প্রোটিনের অভাব হলে খিদে বেড়ে যায়।

৪. অল্প ব’য়সে বার্ধক্য এসে যাওয়া
শ’রীরে প্রোটিনের ঘাটতি ত্বক, চুল ও নখের উপরে প্রভাব ফেলতে পারে। যার ফলে ত্বকের বলিরেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বার্ধক্যজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। হাড় এবং পেশী দুই’ই প্রোটিনের অভাবে দু’র্বল হয়ে যায়। শ’ক্তিশালী হাড়ের জন্য প্রোটিন অত্যন্ত অপরিহার্য। প্রোটিন ক্যালসিয়ামের শোষণ বৃ’দ্ধি করে যা হাড়কে শ’ক্ত করে রাখে।

৫. চোখ এবং হাত ফুলে যাওয়া
শ’রীরে প্রোটিনের দে’হে ফোলাভাব তৈরি হতে পারে। আর এই সমস্যা থেকেই লিভার ন’ষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। প্রোটিন শ’রীরে নতুন কোষ তৈরি করতে সাহায্য করে।

আর তাই প্রোটিনের অভাবে শ’রীরে পানি জমতে শুরু করে, যার ফলে শ’রীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যেতে শুরু করে। যে অ’ঙ্গগুলো বেশি ফোলে সেগুলো- হাত, পা, পায়ের পাতা ও পেট।

এর কারণ, র’ক্তের মধ্যে সংবহন হওয়া প্রোটিন, বিশেষত অ্যালবুমিন আমাদের টিস্যুতে তরল জমতে দেয় না। ফলে প্রোটিনের ঘাটতি হলেই এই পানি জমার প্রবণতা বেড়ে যায়।

৬. নখ সাদা হয়ে যাওয়া
প্রোটিন নখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে থাকে। নখ সাধারণত হালকা গোলাপি রঙ-এর হয়ে থাকে। যদি মনে হয় নখের রঙ অনেকটা সাদা অথবা ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে, তাহলে বুঝতে হবে শ’রীরে প্রোটিনের অভাব দেখা দিয়েছে।

নখের সমস্যাও প্রোটিন শ’রীরে কম ঢোকার আর একটি লক্ষণ। নখ একটু বিবর্ণ হয়, লম্বা লম্বা দাগের মতো হয় নখের উপরে। বিশেষ করে হাতের নখে। সুতরাং যখন প্রোটিনের ঘাটতি হয় তখন ইমিউন সিস্টেম দু’র্বল হয়ে পড়ে।

৭. রুক্ষ ত্বক ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া
শ’রীরে প্রোটিনের অভাবে ত্বক অনেক বেশি রুক্ষ আর শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে ত্বকের মসৃণতা ন’ষ্ট হয়ে যায়। এমন ধরনের সমস্যাতেও বুঝতে হবে শ’রীরে প্রোটিনের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে চামড়ায় নানা সমস্যা তৈরি করে। ত্বক শুকনো, খসখসে হয়ে যায়, র‌্যাশ বেরোয়। অনেক সময়ে চামড়া ফে’টে যায়।

৮. চুল পা’তলা হয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী শ’রীরে প্রোটিনের অভাব
চুলের বৃ’দ্ধির জন্য প্রোটিন একটি সাহায্যকারী উপাদান।

চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা অনেক সময়ে বংশগত কারণেও হতে পারে। কিন্তু তা যদি বেশি পরিমাণে হতে থাকে তাহলে বুঝতে হবে শ’রীরে প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

প্রোটিন চুলের একটি অপরিহার্য উপাদান। লম্বা এবং শ’ক্তিশালী চুলের বৃ’দ্ধির জন্য প্রোটিন খুবই আবশ্যক। সুতরাং যখন এই অপরিহার্য ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টের অভাব ঘটে তখন আপনার চুল দু’র্বল হয়ে যায়, ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং চুল পড়ার সমস্যা দেখা যায়।

About tanvir

Check Also

ভিজিটিং কার্ডের মাধ্যমে দে’হ ব্য’বসা,ক’চি মে’য়ে আছে

যে দেশের মানুষ শতকরা ৯০ ভাগ মু’সলমান সেখানে নাকি ভিজিটিং কার্ডের মাধ্যমে দে’হ ব্যবসা করছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *