Breaking News

সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া

বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমানের সুস্থতা কামনা করে বগুড়ায় দোয়া মাহফিল হয়েছে।

সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) বাদ আছর শহরের বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে দোয়া মাহফিলে দেশবরেণ্য সাংবাদিক ও কলামিস্ট পীর হাবিবুর রহমানের রো’গ মুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

এ সময় বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আরিফ রেহমান, সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম বাবু, বাংলাদেশ প্রতিদিনের বগুড়ার নিজস্ব প্রতিবেদক আব্দুর রহমান টুলু, পাঠাগার সম্পাদক এইচ আলিম,

প্রেসক্লাবের সদস্য রাজু আহম্মেদ, সাখাওয়াত হোসাইন জনি উপস্থিত ছিলেন। দোয়া পরিচালনা করেন মসজিদের ইমাম মুফতি হোসাইন মোহাম্ম’দ আব্দুল্লাহ।

তালেবানি মোল্লাতন্ত্রের হাতে দেশ দেওয়া যাবে না
মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক’রোনার মতো ভ’য়াবহ অভিশাপের বি’রুদ্ধে লড়াই করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে।

এমন এক শান্তিপূর্ণ সময়ে আমরা বঙ্গবন্ধুর বি’রোধী নই, আমরা স’রকারবি’রোধী নই বলে অসহ্য রকমের ঔদ্ধত্য আর উ’গ্র জ’ঙ্গি ও হেফাজত আর কিছু মোল্লাতন্ত্রের ধর্মান্ধ স্বাধীনতা ও মুক্তিযু’দ্ধের চেতনাবি’রোধী শ’ক্তি বেয়াদবির সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

ভু’লে গেছে একাত্তরে ইসলামের নামে যু’দ্ধের ময়দানে গণহ’ত্যা, গণধর্ষণের ভ’য়াবহতা দেখিয়ে সা’ম্প্রদায়িক পাকিস্তান কতটা করুণভাবে পরাজিত হয়েছিল। তারা ভু’লে গেছে মুক্তিযু’দ্ধে বিজয়ী বাংলাদেশ অসা’ম্প্রদায়িক।

এখানে সব ধর্মের নাগরিক তাদের ধর্মচর্চা থেকে সমনাগরিক অধিকার ভোগের অধিকার রাখে। এখানে ইসলামী জলসা, ওয়াজ মাহফিল যেমন হয় তেমনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও তাদের পূজা-পার্বণ মহোৎসব করেন।

এখানে জুমার নামাজে যেমন মুসল্লির ঢল নামে তেমনি বাংলা নববর্ষে সকাল থেকে মু’সলমানসহ সব ধর্মের মানুষের স্রোতে ভাসে দেশ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ মাথা তুলে দাঁড়ায়।

স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস ছাড়াও জাতীয় শো’ক দিবসেও কম মানুষের স্রোত নামেনি।

এমন অবস্থায় উ’গ্র ধর্ম ব্যবসায়ী বাবুনগরী বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ছিঁড়ে নামিয়ে ফেলবেন। মামুনুল হক ভে’ঙে গুঁ’ড়িয়ে দেবেন বলে যে উ’গ্র হুঙ্কার দিয়েছেন তা বরদাস্ত বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় বিশ্বাসী জনগণ করবেন না।

মুখের লাগাম টেনে ধরুন। ধর্ম ব্যবসায়ীরা ’৭১ থেকে পরাজিত। পাক হা’নাদার বাহিনী যেমন নিজেদের রক্ষা করতে পারেনি তেমনি তাদের দোসরদেরও নয়।

আলেম-ওলামাদের মানুষ সম্মান করলেও যু’দ্ধাপরাধীদের মুক্তির পক্ষে ওকালতি, বয়ান, জ’ঙ্গি মিছিল চলবে না। মনে পড়ে মামুনুল হক শাপলা চত্বরে কী বলেছিলেন? আর দিনভর তা-বের পর রাত নামতেই কীভাবে গুটিয়ে পা’লিয়েছেন।

এ দেশে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আ’ঘাত করা উ’গ্র নাস্তিকদেরও স্থান নেই। এ দেশে শ্রেণিশ’ত্রু খতমের নামে সর্বহারাদের গো’পন অ’স্ত্রের রাজনীতি, উ’গ্রপন্থি অন্ধকার বিপ্লবীদের কবর রচিত হয়েছে।

এখানে একাত্তরের স্বাধীনতাবি’রোধী পাকিস্তান হা’নাদার বাহিনীর দোসর জামায়াত ও তাদের স’ঙ্গীরা অর্থ পেশি ও অ’স্ত্র শ’ক্তির স’ঙ্গে বাইরের সমর্থনেও দাঁড়াতে পারেনি জনরোষের বি’রুদ্ধে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যে জাতি বিজয় এনেছে দীর্ঘ সংগ্রাম আর বহু র’ক্তে, সেই মহান নায়কের ভাস্কর্য হবে আকাশছোঁয়া। মামুনুল হকরা বাড়াবাড়ি করলে পরিণতি ভালো হবে না।

রাষ্ট্র ও জনগণ বসে থাকবে না। মোল্লাতন্ত্রের উ’গ্রতার কাছে বিজয়ী জাতি মাথা নত করবে না। এদের পেছনে যারা ভ’য়ঙ্কর খেলা খেলছে বুঝছে না। এ আ’গুনে নিজেরাও পুড়বেন। মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়।

মূর্তি বা পৌত্তলিকতা মন্দিরে মন্দিরে থাকে। সেখানে তাদের ধর্মের অনুসারীরা আচার অনুষ্ঠান করেন। পশ্চিমা দুনিয়ায় খ্রিস্টানদের প্রাধান্য থাকলেও বিশাল সুরম্য মসজিদ মন্দির শোভা পায়।

ভাস্কর্যতে বীরদের স’ঙ্গে শিল্পেরও স্থান পায়। বঙ্গবন্ধু ধর্মনিরপেক্ষ’তার ব্যাখ্যায়ই বলেছিলেন সব ধর্মের মানুষ তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে।

তার মানে ধর্মের অপব্যাখ্যা ধর্মের নামে সমাজ অশান্তি উ’গ্রতা নয়। ধর্ম ব্যক্তিগত জীবনে। রাজনৈতিক জীবনের নয়।

যারা আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণকে ব্যঙ্গ করে মূর্তি নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছেন তা মুক্তিযু’দ্ধ সংবিধান আইন পরিপন্থী।

আইনমন্ত্রী, স্ব’রা’ষ্ট্রমন্ত্রী ক’ঠোর হোন। মামুনুল হকের যে ভিডিও দেখেছি প্রতিটা ঔদ্ধত্য মিথ্যা অহংকারে অভিশপ্ত। ইসলামের শেষ নবী আল্লাহর রসুল হজরত মুহাম্ম’দ মোস্তফা (সা.)-এর ঠোঁট নাড়ানোর বর্ণনা দেখাচ্ছেন।

এটি মহানবীর প্রতি ধৃষ্টতা, অবমাননা ও ধর্মপ্রা’ণ মু’সলমানদের অনুভূতিতে আ’ঘাত। এটা বেয়াদবি। এসব ধর্মের নামে উ’গ্রবা’দী শ’ক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

অন্যদিকে দেশের মুক্তিযু’দ্ধের উত্তরাধিকার বহন করা সব মত-পথের মানুষকে জনগণকে নিয়ে রুখতে হবে। গণজাগরণ ঘটাতে হবে। যে ঐক্যে সা’মরিক শাসনের অবসান ঘটেছে।

যে ঐক্যে ধর্মান্ধ সা’ম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শ’ক্তিকে রুখে দেওয়া হয়েছে, যে শ’ক্তিতে একাত্তরে বিজয় এসেছে, মানবতাবি’রোধী শ’ক্তির ফাঁ’সি হয়েছে, সেই শ’ক্তির ঐক্য আজ অনিবার্য।

রো’হিঙ্গা নিয়ে অস্থির অশান্ত পরিস্থিতি জ’ন্ম নিলে, মুক্তিযু’দ্ধবি’রোধী শ’ক্তি ভাস্কর্যের বি’রোধিতার নামে তালেবানি মোল্লাতন্ত্রের উত্থান ও আ’গুন জ্বা’লালে কেবল প্রিয় স্বদেশই র’ক্তাক্ত হবে না,

অশান্ত হবে না, আশপাশের দেশেও আ’গুনের তাপ লাগবে। আফগানিস্তানের তালেবানিরা একটি দেশের সর্বনাশই করেনি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রকেও কলঙ্কিত করেছে।

যে উ’গ্র মোল্লাতন্ত্র একদিন ইসলাম চলে যাচ্ছে বলে ’৭১ সালে পাকিস্তানি হা’নাদার বাহিনীর দোসর হয়ে এ দেশে মু’সলমানদের গণহ’ত্যা করেছে, গণধর্ষণ করেছে তারা মুক্তিযু’দ্ধের বিজয় মেনে নিতে পারেনি।

তাদের পরিণতিও অভিশপ্ত। তাদের সহচর ও উত্তরসূরিরাই আজ জাতির মহা’নায়ক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য হবে না বলে ধর্মের নামে উ’গ্র আ’ক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে অশান্ত অস্থির পরিবেশ তৈরির ভ’য়ংকর খেলা খেলছে।

বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমু মুখ খুলেছেন ১৪ দলের হয়ে। ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, তার মতো।

মাহবুব-উল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ কড়া বর্তা দিয়েছেন। এক ছাত্রলীগ নামতেই মামুনুল হকের কণ্ঠ নীরব হয়ে এসেছে। শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জে গোলাম আযমকে হারাম করেছিলেন।

সারা দেশে রাজনৈতিক শ’ক্তি নেমে গেলে, প্রশাসনিক শ’ক্তি অ্যা’কশনে গেলে এদের খুঁজেও পাওয়া যাবে না। এদের পেছনের শ’ক্তিও নাই হয়ে যাবে। এদের বি’ষদাঁত ভে’ঙে দিতে দ’মন করতেই হবে।

এ শ’ক্তি কখনো মাদ্রাসা মসজিদে শি’শুদের অমানবিক নি’র্যাতন, বলাৎকার ধর্ষণের ঘ’টনায় আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠলেও প্র’তিবাদ করে না। ঘুষ-দু’র্নীতির বি’রুদ্ধে কথা বলে না।

মাদ্রাসার ভিতর সংঘটিত ব’র্বরতার কথা বলে না। ধ**র্ষকের ফাঁ’সি চায় না। হেলিকপ্টার, জৌলুসের জীবন, মো’টা অঙ্কের নজরানায় ভোগবা’দী জীবনে, ধর্মের রাজনীতির বি’ষ ছড়ায়।

শেখ হাসিনা আলেম’দের সম্মান করেন, মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখেন।

তাই বলে তিনি একাত্তরের দানব শ’ক্তি ও তাদের আদর্শের ভাবধারায় সংগঠিত তালেবানি জ’ঙ্গিদের মাথা তুলতে দেবেন না। এরা ভ’য়ংকর বি’ষধর কালনাগ। দেশ-ইসলামের শ’ত্রু। মুসল্লিদের দুশমন।

মামুনুল হক এক বক্তৃতায় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুুরী মানিক, ড. জাফর ইকবাল ও শাহরিয়ার কবিরকে জঘন্য ভাষায় আ’ক্রমণ করেছেন। কেউ সত্যিকারের আলেম হলে তার ভাষায় মানুষকে জাদুর মতো টানেন।

About tanvir

Check Also

বাংলাদেশের প্রথম তৃতীয় লি*ঙ্গের মাদরাসায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু

শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও আ’নন্দমুখর পরিবেশে বাংলাদেশের প্রথম তৃতীয় লি*ঙ্গের মাদারাসায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে। গতকাল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *