Breaking News

ইহুদী ফরাসী না’রী লায়লার ইসলাম গ্রহণের মর্মস্পশী কাহিনী

ইসলামের আলোকিত বিধি-বিধান, বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং নানা প্রথা যুগ যুগ ধরে সত্য-সন্ধানী বহু অমু’সলিম চিন্তাশীল মানুষকে আকৃ’ষ্ট করেছে। যেমন, জ্ঞান-চর্চার ও’পর ইসলামের ব্যাপক গুরুত্ব আরোপ অনেক অমু’সলিম গবেষককে অভিভূত করেছে।

ইসলামী হিজাব বা শালীন পোশাক তথা পর্দার বিধানও আকৃ’ষ্ট করে আসছে অমু’সলিম না’রী সমাজকে। ফরাসি না’রী লায়লা হোসাইনও ওদের মধ্যে একজন।

বার্তা সংস্থা ইকনা: পাশ্চাত্যের বঞ্চিত ও প্র’তারিত না’রী সমাজ ইসলামী শালীন পোশাকের মধ্যে প্রশান্তি, নিরাপত্তা ও পবিত্রতা খুঁজে পাচ্ছেন। পাশ্চাত্যের অনেক না’রীই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তারা এই পশ্চিমা ভূবনে মু’সলিম ম’হিলাদের হিজাব দেখেই ইসলাম ধর্ম সম্প’র্কে জানতে আ’গ্রহী হয়েছেন।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তারা বলেছেন, আমরা হিজাবের মধ্যে সত্যিকারের সু’খ, প্রশান্তি ও নিরাপত্তা অনুভব করছি। ইসলামী হিজাবের এই প্রভাবের কারণে পশ্চিমা স’রকারগুলো নানা অজুহাতে হিজাব পরিহিতা না’রীদের ও’পর সীমাবদ্ধতা আরোপ করছে। এ ছাড়াও এসব স’রকার পর্দানশীন না’রীদেরকে একঘরে করার ও দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

ফরাসি নও-মু’সলিম লায়লা হোসাইন ছিলেন একজন ইহুদি। ‘আহলুল বাইত’ টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, হিজাবের সৌন্দর্য দেখেই তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং বেছে নিয়েছেন পরিপূর্ণ হিজাব।

লায়লা হোসাইন বলেছেন, ‘মু’সলমানদের সম্প’র্কে সব সময়ই এক ধরনের ভীতশ্রদ্ধা ছিল আমার মধ্যে। আমি এভাবেই বড় হয়েছি। কিন্তু আমি সব সময়ই হিজাব পরা মু’সলিম না’রীদের প্রতি আকৃ’ষ্ট ছিলাম। তাদের পবিত্রতা ও বিনম্রতা আমাকে মুগ্ধ করত’।

‘আমার দৃষ্টিতে তাদের রয়েছে এক ধরনের নিজস্ব সৌন্দর্য। আমি ইহুদি সমাজের সদস্য হওয়ায় ইসলামী হিজাব রপ্ত বা আয়ত্ত্ করা আমার জন্য কঠিন কাজ ছিল না। কিন্তু ঈমান বা বিশ্বাস সম্প’র্কে মানুষের ধারণাগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। তারা (অর্থাৎ ইহুদিরা) মু’সলিম ম’হিলাদের চেয়ে ইহুদি ম’হিলাদেরকেই বেশি শ্রদ্ধা করত।’

ইসলামের অন্য অনেক সৌন্দর্য গবে’ষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয় লায়লা হোসাইনের কাছে। পবিত্র কোরআন অধ্যয়ন ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধিতে তাকে সহায়তা করেছে। তিনি বলেছেন, ‘কোরআন ছিল আমার প্রথম অনুপ্রেরণা।

যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ আমি পেয়েছি তা থেকে বুঝতে পেরেছি যে, ইসলাম সত্য ও খাঁটি ধর্ম। কারণ, এ ধর্ম সব নবী-রাসূলকেই শ্রদ্ধা করে। আর আমার দৃষ্টিতেও এটা খুবই যৌক্তিক।

ধীরে ধীরে আমার কাছে এটা স্পষ্ট হয় যে ইসলামের শুধু বাহ্যিক দিক নয়, আছে অভ্যন্তরীণ দিকও। তাই ভে’তর থেকেও ইসলামকে রক্ষা করতে হবে।’

ইসলামে মানুষের আত্মা ও দে’হ- উভ’য়ই গুরুত্ব পেয়েছে। প্রকৃত মু’সলমান হওয়ার জন্য ইসলামী বিশ্বাসের শুধু মৌখিক স্বীকৃতি ও বাহ্যিক আচার-আচরণ বা ইবাদতই যথেষ্ট নয়। মন বা হৃদয়ের গভীরে ইসলাম কতটা স্থান করে নিয়েছে-লায়লা হোসাইনের মতে তাও গুরুত্বপূর্ণ।

পশ্চিমা স’রকারগুলো ইসলাম সম্প’র্কে সঠিক চিত্র তুলে না ধরায় নও-মু’সলিমরা অনেক সমস্যার শি’কার হন। কিন্তু ইসলামের সৌন্দর্য ও বাস্তবতা নওমু’সলিম’দের কাছে এতই হৃদয়গ্রাহী যে সব ধরনের ক’ঠোরতা, ক্লেশ ও বা’ধা-বিঘ্ন সহ্য করা তাদের জন্য সহজ হয়ে পড়ে।

লায়লা হোসাইন এ প্রস’ঙ্গে বলেছেন, ‘হিজাব পরার মাধ্যমে আমি নিজেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছি-এই ভেবে আমার পরিবার উ’দ্বি’গ্ন হয়ে পড়ে। কারণ, ফ্রান্সে হিজাব নি’ষিদ্ধ।

স্কার্ফ বা ওড়না মাথায় দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যাওয়া এ দেশে নি’ষিদ্ধ, ফলে হিজাবধারীকে সামাজিক অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হয়। শুধু বিশেষ পোশাক পরার কারণে আমি আমার সামাজিক জীবনকে বি’পদাপন্ন করেছি বলে আমার পরিবার মনে করত। এ অবস্থা মেনে নেয়া তাদের জন্য খুবই ক’ষ্টকর ছিল।’

‘তারা মনে করত আমি আমার মু’সলমান হওয়ার বি’ষয়টি হিজাবের মাধ্যমে প্রকাশ না করলেই ভাল হত। ইসলামের প্রতি আমার বিশ্বাস কেবল মনের মধ্যে লালন করলেই তা যথেষ্ট হত বলে তারা মনে করত। কিন্তু আমার কাছে বি’ষয়টি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

‘কারণ, পবিত্র কোরআনে ও রাসূল (সা.)’র অনেক হাদিসে বা সুন্নাতে হিজাবের ও’পর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। মু’সলিম পরিচয়ের জন্যেও যে তা জরুরি তা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছ কোরআন-হাদিসে। তাই হিজাব পরিত্যাগ করতে রাজি হইনি আমি। আমার কাছে হিজাব শুধু হাত ও মাথা ঢাকার বি’ষয় নয়, বরং এর চেয়েও বড় কিছু।’

ইসলামের সৌন্দর্যে আকৃ’ষ্ট হয়ে অনেক ইহুদি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছেন। এ ধরনের ঘ’টনা দিনকে দিন বাড়ছে। কিন্তু বর্তমান যুগে প্রচলিত ইহুদি ধর্ম (যা আসলে আদি বা অকৃত্রিম ইহুদি ধর্ম নয়) অনুযায়ী এ ধর্ম ত্যাগ করা যায় না। ফলে নও-মু’সলিম ইহুদিরা অনেক সমস্যার শি’কার হচ্ছেন। তাসুয়ি ইহুদা লাভ নামের একজন ইহুদি পুরোহিত বলেছেন, ইহুদির মে’য়েরা অন্য ধর্ম গ্রহণের পরও ইহুদি থেকে যায়। কারণ, ইহুদি ধর্ম অনুযায়ী, ইহুদি মায়ের গ’র্ভে জ’ন্ম নেয়া ইহুদি অন্য ধর্ম গ্রহণ করার পরও ইহুদি থেকে যায়।

এ ছাড়াও বিশ্বের ইহুদিদের অভিভাবক হওয়ার দাবিদার দ’খলদার ইহুদিবা’দী ইসরাইল ফিলিস্তিনের বাইরে ইহুদিদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ঠেকানোর জন্য ব্যাপক ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ নিয়েছে। তা সত্ত্বেও ইসরাইলি দৈনিক মারিভ সম্প্রতি লিখেছে, ‘

ইসরাইলের ভে’তরেই প্রতি বছর শত শত ইহুদি নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য ইসরাইলি বিচার-বিভাগের কাছে আবেদন জানাচ্ছে। ইসরাইলি ইহুদিদের মধ্যে এ ধরনের আবেদনের সংখ্যা ২০০৮ সালে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।’

‘আবার অনেক ইহুদি ধর্ম পরিবর্তন সংক্রান্ত এ ধরনের আবেদন করছেন না, কিংবা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে গেলে যেসব সীমাবদ্ধতা ও হ’য়রানির শি’কার হতে হবে তা এড়ানোর জন্য এ পবিত্র ধর্ম গ্রহণের কথা প্রকাশ করছেন না।’

গবে’ষণায় দেখা গেছে, ফিলিস্তিনিদের ও’পর ইসরাইলি হ’ত্যাযজ্ঞ ও সহিং’সতা এবং ইহুদিবা’দীদের হাতে তাদের সম্পদ দ’খল ও লুণ্ঠনের ঘ’টনাগুলো অধিকৃত ফিলিস্তিনে আসা ইহুদিদেরকে বিকৃত হয়ে পড়া ইহুদি ধর্ম ত্যাগের অন্যতম প্রধান চালিকা শ’ক্তি।

About tanvir

Check Also

ভিজিটিং কার্ডের মাধ্যমে দে’হ ব্য’বসা,ক’চি মে’য়ে আছে

যে দেশের মানুষ শতকরা ৯০ ভাগ মু’সলমান সেখানে নাকি ভিজিটিং কার্ডের মাধ্যমে দে’হ ব্যবসা করছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *