Breaking News

বিকাশ অ্যাপ এ আনুন লোন আইকন, যেভাবে মিলবে ঋ’ণ

রিকশা মেরামত করতে হঠাৎ এক’জন রিকশা’চালকের তাৎক্ষণিক দেড় হাজার টাকা ঋ’ণ প্রয়োজন হলো। আর সেই ঋ’ণের জন্য তিনি চড়া সুদের মহাজনের কাছে যাবেন। মহা’জন বিশ্বাস করলে ঋ’ণ দেবেন, এরপর রিকশা মেরামত হবে। এই প্রথা শেষ হয়ে আসছে।

এখন হাতে থাকা মোবাইলের মাধ্যমে বিকাশ হিসাব থেকে তাৎক্ষণিক এমন ছোট অঙ্কের ঋ’ণ পেয়ে যাবেন। রিকশা মে’রামত ‘কর’তেও ”অপেক্ষা কর”তে হবে’ না। বি’কাশের ‘গ্রাহকদের’ তাৎক্ষণিক ‘ঋ’ণ দিয়ে দেবে বেস’রকারি খাতের সিটি ব্যাংক। আর সেই ঋ’ণ সময়মতো বিকাশ হিসাবের মাধ্যমেই পরিশোধ করে দেবেন গ্রাহক, যাতে সুদহার হবে ৯ শতাংশ।

শুধু রিকশাচালক নন, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী, যেকোনো শ্রেণির উপযুক্ত গ্রাহকেরা এমন ঋ’ণ পাবেন। এ জন্য গ্রাহকের বিকাশ হিসাব লেনদেন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। শিগগিরই বাংলাদেশ এমন তাৎক্ষণিক অতি ক্ষুদ্রঋ’ণের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। সিটি ব্যাংক ও বিকাশ এই ঋ’ণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এর আগে পরীক্ষামূ’লক ঋ’ণ কার্যক্রম সফল হওয়ায় ব্যাংকটি এখন সারা দেশে সব বিকাশ গ্রাহকদের জন্য এই সেবা চালু করতে যাচ্ছে।

জানা গেছে, গত বছরের জুলাইয়ে পরীক্ষামূ’লকভাবে মোবাইলের মাধ্যমেই তাৎক্ষণিক ঋ’ণ পাওয়ার সুযোগ চালু হয়। বাংলাদেশের শীর্ষ মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের গ্রাহকদের এই ঋ’ণ দেয় সিটি ব্যাংক। বিকাশে লেনদেন প্রতিবেদন ও ব্যবহারের ধরন দেখে কৃত্রিম বুদ্ধিম’ত্তা (এআই) ঠিক করে, গ্রাহক ঋ’ণ পাওয়ার যোগ্য কি না। ঋ’ণ পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে সিটি ব্যাংক ঋ’ণ দেয়।

ঋ’ণের আকার ছিল ১০০ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এই ঋ’ণ পেতে কোনো নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। শুধু বিকাশ অ্যাপে ক্লিক করে ঋ’ণ আবেদন করতে হয়। আর মুহূর্তেই ঋ’ণের টাকা চলে যায় বিকাশ হিসাবে। গ্রাহকের অবস্থান কোন জে’লায় বা ঋ’ণের বন্ধকি আছে কি না, এমন কোনো কিছুরই প্রয়োজন এতে পড়েনি। এভাবেই ডিজিটাল ঋ’ণের পরীক্ষামূ’লক কার্যক্রম শুরু হয়।

বিকাশের এই গ্রাহকদের তাৎক্ষণিক অতি ক্ষুদ্রঋ’ণ দিয়ে স্বস্তিতে আছে বেস’রকারি খাতের সিটি ব্যাংক। পরীক্ষামূ’লক এ কার্যক্রমে প্রায় ১৮ হাজার গ্রাহক ঋ’ণ নিয়েছেন। সময়মতো ফেরত দিয়েছেন প্রায় সবাই। খেলাপি হয়েছে মাত্র দশমিক ৭ শতাংশ ঋ’ণ। যেখানে ব্যাংক খাতের খেলাপি ১০ শতাংশের কাছাকাছি, আর সিটি ব্যাংকের খেলাপি ঋ’ণ ৫ শতাংশে মতো। এখন সিটি ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে সব বিকাশ গ্রাহকের জন্য এই ঋ’ণ কর্মসূচি শুরু করতে চায়। পরীক্ষামূ’লক কার্যক্রমের চেয়ে এতে ঋ’ণ বাড়াতে চায় ঋ’ণের পরিমাণ।

প্রতিবেশী ভারত, চীন, ফিলিপাইন, কেনিয়াসহ কয়েকটি দেশে এমন ডিজিটাল ঋ’ণ বেশ জনপ্রিয়। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অন্য পেশাজীবীরাও ডিজিটাল ঋ’ণ পাচ্ছেন। নতুন এই সেবা চালুর হলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। এর আগে শুধু টাকা জমা ও পাঠানোতেই চালু ছিল মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএসএস) কার্যক্রম।

দি সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিকাশের গ্রাহকদের পরীক্ষামূ’লক ঋ’ণ দিয়ে আমরা সফল হয়েছি। এতেই বোঝা যায়, ক্ষুদ্ররা ঋ’ণ পেলে নিয়মিত পরিশোধ করবে। এখন শুধু দেওয়ার পালা। এসব গ্রাহকের কাছে ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋ’ণ পৌঁছাতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। মহাজনি প্রথা ও চড়া সুদের কবল থেকে দেশ রক্ষা পাবে।’

মাসরুর আরেফিন আরও বলেন, ‘আমরা এখন পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অনুমোদন চাইব। অনুমোদনের পর সারা দেশে বড় আকারে এই ঋ’ণ কর্মসূচি শুরু হবে। এর ফলে ঋ’ণ পেতে ভোগান্তি, হ’য়রানি ও চড়া সুদ থেকে রেহাই পাবে দেশের মানুষ। এতে মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে।’

About tanvir

Check Also

১০ বছর প্রেমের পর বিয়ে, নববধূকে রাস্তায় রেখে পালালেন স্বা’মী

১০ বছর প্রেমের পর সালিস বৈঠকে বিয়ে হয় ইতি আক্তারের (ছদ্মনাম)। শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে প্রকৃতির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *