Breaking News

অভিনেত্রী স্পর্শিয়া ও তার মায়ের গল্প সিনেমার কাহিনীর চেয়ে কম নয়!

প্রেম করে পা’লিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন সুজান। কিন্তু ভালোবাসার মর্যাদা দিতে পারেননি তাঁর স্বা’মী। স্পর্শিয়ার ব’য়স যখন এক বছর, সংসার-স’ন্তান-স্ত্রী ছেড়ে স্পর্শিয়ার বাবা পাড়ি জমালেন বিদেশে।

স্বা’মীর স’ঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন সুজান, সাড়া মেলেনি। পরে জানতে পারলেন, সেখানেই বিয়ে করে স্থায়ী হয়েছেন স্পর্শিয়ার বাবা।

শুরু হলো মা-মে’য়ের অস্তিত্বের লড়াই, টিকে থাকার লড়াই। একা একহাতে মে’য়ের আজকের অবস্থান তৈরি করেছেন। অক্ষুণ্ন রেখেছেন নিজের সুনামও।

তবু কিছু আক্ষেপ থেকেই যায়। ‘সমাজ একজন স্বা’মী চায়, সেটা পরতে পরতে বুঝতে হয়েছে। স্বা’মী মন্দ হলেও অসুবিধা নেই। এই সমাজে স্বা’মী থাকতেই হবে।

স্বা’মী না থাকা মানেই ম’হিলার হয়তো কোনো ত্রুটি আছে। সমাজ আমাকে এটা ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছে। অনেক কিছু ফেইস করেছি’—বললেন সুজান।

একটু থেমে উদাহরণসহ বুঝিয়ে বললেন, ‘একা ম’হিলাদের নিরাপত্তার অভাব আমাদের দেশে। সেটা বুঝেছি পদে পদে। কতবার যে বাসা বদলাতে হয়েছে! বাড়িওয়ালা প্রেম নিবেদন করে বসেন,

কোথাও বাড়িওয়ালার ছেলে, এমনকি বাড়িওয়ালার ভাই। যখনই এমন পরিস্থিতিতে পড়েছি, বাড়ি ছেড়ে দিয়েছি। এভাবে করে করে খুব টায়ার্ড হয়ে গিয়েছিলাম।

একা মে’য়ের নিরাপত্তার অভাব কতটা সেটা আমি আর আমার মে’য়েই জানি। স্কুলে ওর সহপাঠীদের অভিভাবক, টিচাররা মিলে এমন অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করেছিল! সবার প্রশ্ন, ওর বাবা নেই কেন?

বাবা নেই মানে ও ভালো নয়। ওর স’ঙ্গে বাকি ছেলে-মে’য়েদের মিশতে দেওয়া যাবে না। প্র’তিবাদ জানিয়েছি তৎক্ষণাৎ। মিডিয়ায় নিউজ করার কথা বলায় পরে ওরা চুপসে যায়।’

মায়ের কথা মন দিয়ে শুনছিলেন স্পর্শিয়া। এবার নিজেই যোগ দিলেন, ‘আমাদের সমাজ তো পুরু’ষতান্ত্রিক। একজন সিঙ্গল ওম্যানকে খুব খা’রাপ চোখে দেখা হয়।

স্বা’মী ছেড়ে গেছে, নিশ্চয়ই বউয়ের দোষ। শুধু যে অর্থনৈতিক স্ট্রাগল তা নয়, মা’নসিক স্ট্রাগলও ছিল। নিজের খাওয়া-পরা-থাকার স’ঙ্গে এই শহরে আরেকটা মে’য়েকে বড় করা, এটা কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়।’

মা-মে’য়ের সম্প’র্ক বন্ধুর মতো। সুজান হকের মতে, সব মা-বাবারই আগে স’ন্তানের বন্ধু হতে হবে। তাহলে স’ন্তানের ক’ষ্ট বা দুঃখটা জানা যায়। সু’খ তো এমনিতেই চোখে পড়ে।

এতে স’ন্তান নিরাপদ বোধ করে। ‘আমার মায়ের জীবন নিয়ে মুভি হওয়া উচিত। তার স্ট্রাগল নানামাত্রিক। বলে শেষ করা যাবে না। বাড়িওয়ালা, পাড়া-প্রতিবেশীর কথা তো মা বললই।

কতবার যে চাকরি বদলাতে হয়েছে! বসরা ডিস্টার্ব করত। একটা সিঙ্গল মে’য়েকে পাবলিক প্রপার্টি হিসেবে দেখা হয় এখানে’—হেসে হেসেই বললেন স্পর্শিয়া।

তবে মনের ক’ষ্টটা তাঁর চোখে-মুখে স্পষ্ট। একটু থেমে আবার বলতে শুরু করলেন, ‘মা চাইলে আবারও বিয়ে করতে পারত। সেটা না করে আমাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। একটা মানুষ স’ন্তানের প্রতি এতটা ডেডিকে’টেড হতে পারে,

আমাকে অবাকই করে। কারণ আমি আরো অনেক মা-বাবা দেখেছি। পুরো জীবনটাই লিখে দিল আমাকে। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবও তেমন নেই। আমাকে নিয়েই তার জীবন।

এটা নিয়ে প্রায়ই আমাদের ঝ’গড়া হয়। আমি এখনো বলি, একটা প্রেম করো, বিয়ে করো। করবে না সে। আমার স’ঙ্গে ব’য়সেরও খুব বেশি পার্থক্য নেই তার।’

সুজান হক শিক্ষকতা করেছেন। করেছেন সাংবাদিকতাও। দেশের প্রথম সারির একটি দৈনিকে দীর্ঘদিন লিখেছেন। এখন লেখালেখি নিয়েই বেশি ব্যস্ত।

এবার বইমেলায়ও তাঁর একটি বই আসার কথা ছিল—‘হেলেনের অহংকারী ফুল’। তিনটি গল্প নিয়ে ছোটদের এ বই। সামনেই প্রকাশ করবেন।

আগেও প্রকাশিত হয়েছে তাঁর বেশ কিছু বই। কবিতার বই ‘তুমি সেই ভ্যালেন্টাইন’, বিভিন্ন ক্ষেত্রের তারকাদের যেসব সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন, ফিচার লিখেছিলেন, তার সংকলন নিয়েও বই প্রকাশ করেছেন। মাইকেল জ্যাকসনের মৃ’ত্যুর পর লিখেছেন ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি মাইকেল জ্যাকসন’।

আছে বুটিকস হ্যান্ডিক্রাফটের হাউস। বাগান আছে, আছে পোষা প্রা’ণী। ফটোগ্রাফিও করেন। মে’য়ের কাছে যত নাটক-সিনেমার পাণ্ডুলিপি আসে, সেগুলো মে’য়ের আগেই পড়ে ফে’লেন।

মডেল-অভিনেত্রী স্পর্শিয়ার আজকের অবস্থানের পেছনে পুরোটাই তাঁর মায়ের অবদান। ‘ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, এমন কোনো চা’হিদা ছিল না মায়ের।

ছবি আঁকতাম, সেটাতেও তার সায় ছিল। লেখালেখি করতাম, উৎসাহ দিত যেন আমি লেখক হই। যখনই যেটা করতে চেয়েছি, মা চেয়েছে যেন সেটাই মন দিয়ে করি।

মা যেহেতু বহু বছর সাংবাদিকতায় ছিল, ছোটবেলা থেকেই শোবিজের মানুষজন দেখে বড় হয়েছি। কিন্তু মা কখনো চা’পিয়ে দেয়নি, আমাকে অভিনেত্রী হতে হবে।

এমনকি কখনো তার পরিচিত কাউকে বলেওনি, আমার মে’য়েকে কাজ দাও। কিন্তু যখন নিজে শুরু করেছি, তখন তাকে পাশে পেয়েছি।’

খাওয়াদাওয়া নিয়ে মা-মে’য়ের খুব ঝ’গড়া হয়। এক বেলার খাবার আরেক বেলা খান স্পর্শিয়া। এ নিয়ে মায়ের অনেক কথা শুনতে হয়। মে’য়েকে বকাঝকা করার আরো কিছু কারণ আছে,

‘ও খুব সরল টাইপের। যে যা চায়, সব দিয়ে দেয়। তখন রাগ হয়। আমার কোনো একটা শখের জিনিস কেউ চাইল, অমনি সে দিয়ে দেয়।

আমার লাইব্রেরির অর্ধেক বই দিয়ে দিয়েছে মানুষকে। বাসায় না থাকলে এই কাজটা করে, বাসায় ফেরার পর বলেও না। পরিচিত বা চেনা মুখের অনেক পরিচালকের আবদার রাখতে গিয়ে মানহীন নাটক হাতে নেয়। তখন রাগারাগি করি’—বললেন সুজান হক।

মাকে আইডল মানেন স্পর্শিয়া, এটা খুবই স্বাভাবিক। শুধু তা-ই নয়, স্পর্শিয়া মনে করেন, এই সময়ের প্রত্যেক না’রীর জন্য তাঁর মা উদাহরণ। প্রত্যেক না’রীরই একবার তাঁর মায়ের স’ঙ্গে কথা বলা উচিত।

‘বিভিন্ন সময়ে হতাশাগ্রস্ত মে’য়েদের স’ঙ্গে কথা হলে তাদের বলি আমার মায়ের স’ঙ্গে দেখা করে কথা বলতে। উত্তরণের পথ অন্তত খুঁজে পাবে।

আমি যখন অনেক আপসেট হয়ে যাই, মা’নসিকভাবে ভে’ঙে পড়ি, তখন চোখের সামনে মা চলে আসে। তার কথা চিন্তা করি। ভাবি এই মানুষটা কিভাবে আসলে এত স্ট্রাগল করেছে! এত বড় করেছে আমাকে! জীবনে মা না থাকলে আমি তো কিছুই না!’—বলেন স্পর্শিয়া।

স্পর্শিয়ার জীবনেও ঘটেছে বিয়েবিচ্ছেদের মতো ঘ’টনা। বিয়ের সি’দ্ধান্তটা স্পর্শিয়া নিজেই নিয়েছিলেন। এ বি’ষয়ে সুজানের কথা হলো, ‘এত অল্প ব’য়সে ওর বিয়ের সি’দ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

ও আবেগে পড়ে সি’দ্ধান্তটা নিয়েছিল। আমি বলেছিলাম, এটা তোমার স’ঙ্গে যায় না। তোমার ব’য়স এখনো অনেক পড়ে আছে। আমি পাশে আছি। এখন আর আবেগেকে প্রশ্রয় দেবে না হয়তো। একবার শিক্ষা তো হলোই।’

স্পর্শিয়াও হাসিমুখে তাঁর মায়ের কথা মেনে নিলেন, ‘যখন ভু’ল করেছি, মা বলেছে এটা কোরো না। মা আমার চেয়ে অবশ্যই ম্যাচিউর’ড। তার যে কথা শুনেছি, ভালো করেছি। যেটা শুনিনি ধরা খেয়েছি, এই আর কি।’

About tanvir

Check Also

বিকাশ অ্যাপ এ আনুন লোন আইকন, যেভাবে মিলবে ঋ’ণ

রিকশা মেরামত করতে হঠাৎ এক’জন রিকশা’চালকের তাৎক্ষণিক দেড় হাজার টাকা ঋ’ণ প্রয়োজন হলো। আর সেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *